বাংলাদেশে ১৮৫৮ সালে সর্বপ্রথম ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার ভাবনা এবং কার্যক্রম শুরু হয়। সেই থেকে ক্যাডেট কলেজগুলি ছাত্র-ছাত্রীদের লুকায়িত ট্যালেন্টস, জ্ঞান এবং মেধাকে কাজে লাগিয়ে তাদেরকে সুশিক্ষার মাধ্যমে বৈশ্বয়িক পরিমন্ডলে সার্বজনিন নেতৃত্তের অধিকারী করে গড়ে তোলে দেশের এবং বহির্বিসশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট বিনির্মানে দক্ষ পরিচালনাবিদ, মানব সভ্যতার কল্যানমুলক কাজের জন্য বিবিধ সময়োপযোগী নেতা, জটিল সময়ে দেশের কান্ডারী কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দক্ষ এবং নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা হিসাবে তৈরি করাই ক্যাডেট কলেজগিলির অন্যতম মুল লক্ষ্যের মধ্যে একটি। গত অর্ধশত বছরের হিসাব নিলে দেখা যায় যে, ক্যাডেট কলেজগুলি থেকে সুশিক্ষায় গড়ে উঠা ছাত্র-ছাত্রীদের সার্বিক সাফল্য এতোটাই চমকপ্রদ এবং আশাব্যাঞ্জক যে, তাদের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব শুধু শিক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়, তারা দেশের এবং দেশের বাইরের জগতেও একই পরিমান উজ্জলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তারা দেশের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সব পেশায় যেমন, শিক্ষা জগতে, প্রশাসনিক কর্মকান্ডে, আইন শৃঙ্খলা বিভাগে, বিচার বিভাগ, ব্যবসা, বানিজ্য, স্বাস্থ্য সেক্টরে, এমন কি রাজনৈতিক পরিমন্ডলেও উজ্জ্বল সাফল্য রেখেছেন।
শহীদ ক্যাডেট একাডেমি সেই উদ্দেশ্যকে হাসিল করার লক্ষ্যে প্রায় ৩৭ বছর ধরে একাগ্রচিত্তে সীমাবদ্ধ সম্পদের মধ্যেও মেধাবান ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এমন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ করে দিয়ে ক্যাডেট কলেজ তথা ভালো শিক্ষা প্রতিষ্টনারের উক্ত মুল লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অবিরত প্রচেষ্ঠা চালিয়ে আজ দেশের আনাচে কানাচে সবার কাছে এক পরিচিত নাম হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। শহীদ ক্যাডেট একাডেমির প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য এই যে, প্রতিটি মেধাবি ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে এসব ক্যাডেট কলেজ তথা দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির পথ সুগম করে দেয়া। আর এর জন্য শহীদ ক্যাডেট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ শহীদুল আলম শহীদ, প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার যোগ্য উত্তরসুরী জনাব তারিক শহীদ সাদির অমানবিক পরিশ্রম এবং সার্বক্ষনিক প্রচেষ্ঠা বিদ্যমান।
আজ থেকে প্রায় ৪৫ বছর আগে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এতো প্রতিযোগিতা না থাকলেও তখনো সন্তানদেরকে একটি ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের সন্তানদেরকে পাঠদানে কোনো অভিভাবকের চেষ্টার ত্রুটি ছিলো না। কিন্তু তখন হয়তো মেথোডিক্যাল কোনো প্রশিক্ষন পদ্ধতি না থাকায় অনেক মেধাবী ছাত্র ও এসব ক্যাডেট কলেজসমুহ থেকে শিক্ষার সুযোগ পেতো না। আমি নিজেও ক্যাডেট কলেজে শিক্ষা গ্রহন করে এটা পরিষ্কার বুঝতে পেরেছি যে, ক্যাডেট কলেজ শুধু পাঠদানেই একটি মেধাবী ছাত্রকে রেজাল্ট ওরিয়েন্টেড করে গড়ে তোলে না, বরং তাকে শিক্ষার পাশাপাশি সুগঠিত শৃঙ্খলাবোধ জীবন, নেতৃত্ব দেয়ার লিডারশীপ প্রশিক্ষন, সামাজিক কর্মকান্ডে কিভাবে সীমিত সম্পদের উপর ভর করে নিজেকে জড়িয়ে বৃহৎ এবং মানব কল্যানমুলক কাজে লিপ্ত হতে হয় তার শিক্ষা হাতে কলমে দিয়ে থাকে।
আমরা এই শহীদ ক্যাডেট একাডেমির মুলমন্ত্র এবং এর চিন্তাধারার সাথে একমত পোষন করে ফ্রান্সসাইজিং এর মাধ্যমে তাদের সাথে যুক্ত হয়ে ঢাকার কেন্দ্রস্থল মোহাম্মাদপুর এলাকায় শহীদ ক্যাডেট একাডেমির একটি শাখা সবেমাত্র উদ্ভোধন করে আমরাও উক্ত সাফল্যের ধারাবাহিকতার সাথে যুক্ত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যানে নিয়োজিত থাকার অঙ্গীকার করেছি।
আমরা আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বপ্রকার চেষ্টা করবো যাতে আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের প্রকল্পে হাত দিয়েছি তাতে যেনো সর্বাত্তক সফলতা পাই। আর এ জন্য প্রতিটি ছাত্র, প্রতিটি অভিভাবকের একান্ত সহযোগিতার প্রয়োজন। আমাদের সাথে আরো রয়েছেন অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী যারা এরই মধ্যে বিভিন্ন স্বনামধন্য স্কুল কলেজে সাফল্যের সাথে তাদের কর্মদক্ষতার পরিচয় রেখেছেন।
মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ), পিএইচডি, এমএসসি, এমবিএ, এমডিএস, পিএসসি, জি+
ডাইরেক্টর-১
শহীদ ক্যাডেট একাডেমি, মোহাম্মাদপুর শাখা